কাঁচকলার উপকারীতা ও কি কি জেনেনিন

কাকাঁচকলার উপকারীতা 

কাঁচকলার পরিচয়
সারাবছর পাওয়া যায় কাঁচকলা কেউ কেউ আনাজি কলাও বলে থাকেন। সবজি হিসেবে কাঁচকলা এদেশে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাঁচকলা হচ্ছে মধুরস, যা খেলে মুখে রুচি বাড়ে। তাই রোগীর পথ্য হিসেবে এর জুড়ি নেই। এর প্রতি ১০০ গ্রামে (আহারোপযোগী) শর্করা ১৭.৩ গ্রাম, আমিষ ২.৬ গ্রাম, চর্বি ০.৪ গ্রাম, খনিজ লবণ ১ গ্রাম, ভিটামিন-বি ০.১৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-সি ৪ মিলিগ্রাম এবং খাদ্যশক্তি রয়েছে ৮৩ কিলোক্যালরি। আয়ুর্বেদীয়  মতে, অন্যান্য কলার মতো এর শিকড়, কন্দ, পাতা, ফুল, ফল, থোড় ও বীজ ঔষধিগুণে ভরপুর।

কাঁচকলার ঔষধি গুন

১। ওজন কমাতে চাইলে, খাদ্য তালিকায় কাঁচকলা রাখুন। কাঁচকলার ফাইবার অনেকটা সময় পেট ভরিয়ে রাখে। এটি আঁশযুক্ত হওয়ায় তা মেদ কমাতেও সাহায্য করে।

২। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের জন্যেও কাঁচকলা উপকারী। এটি আঁশযুক্ত হওয়ায় রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। ভিটামিন বি-৬ গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে টাইপ-টু ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

৩। কাঁচকলায় প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, প্রতিদিন ৪,৭০০ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম গ্রহণে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস হয়। তবে পটাসিয়াম সবার জন্য নিরাপদ নয়। উচ্চ রক্তচাপ অথবা কিডনির রোগে আক্রান্ত রোগীদের পক্ষে তাই কাঁচকলা খাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত।

৪। কাঁচকলা আঁশযুক্ত সবজি হওয়ায় এটি খুব সহজে হজম হয়। কাঁচকলা পেটের ভিতরের খারাপ ব্যাকটেরিয়া দূর করে দেয়। তবে অতিরিক্ত পেট ফোলার সমস্যা থাকলে কাঁচকলা না খাওয়াই ভাল। কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের সমস্যাও অনেক সময়ে বাড়িয়ে দেয়।

৫। কাঁচকলা কোলন থেকে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া, জীবাণু এবং ইনফেকশন দূর করে কোলনকে সুস্থ রাখে। দীর্ঘমেয়াদী কোলন সংক্রান্ত রোগ দূর করতে কাঁচকলা বেশ কার্যকরী।

৬। কাঁচকলায় থাকে এনজাইম, যা ডায়রিয়া এবং পেটের নানা ইনফেকশন দূর করে। তাই ডায়রিয়া হলে চিকিৎসকরা কাঁচকলা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

৭।  উচ্চ ভিটামিন বি-৬ এর উৎস কাঁচকলা। ভিটামিন বি-৬ রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরি করে, যা রক্তে অক্সিজেন পরিবহন করে। এছাড়া ভিটামিন বি-৪ রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।

৮। কাঁচকলা আর থানকুনিপাতা বেটে এক সাথে খেলে আমাশয় সেরে যায়। তবে রক্ত আমাশয় এবং জন্ডিস হলে কাঁচকলা সিদ্ধ করে গরম ভাত দিয়ে খেতে হবে।

৯। কলার থোড় উচ্চরক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। এছাড়া ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর তৃষ্ণা নিবারণে এবং রক্তবমি বন্ধে সহায়তা করে।

১০। কেঁচোকৃমি হলে বয়স অনুযায়ী ৩/৪ চা-চামচ কলাগাছের
শিকড়ের রস সকালে খালিপেটে খেতে হবে।  এভাবে কয়েক দিন নিয়মিত খেলে কৃমির উপদ্রব কমে যাবে।

No comments

Powered by Blogger.