বেগুনের পুষ্টি গুন ও ঔষধি গুন

সারা বছর পাওয়া যায় এমন সবজির মধ্যে বেগুন একটি। এর আকার-আকৃতি হয় নানা রকম। কোনটি দেখতে লম্বাটে, কোনোটি গোলাকার (অনেকটা), কোনোটি আবার সরু। বর্ণও হয় একাধিক। কারণ বেগুনে রয়েছে যথেষ্ট পুষ্টি। এর প্রতি ১০০ গ্রামে ভিটামিন-এ আছে ৮৫০ মাইক্রোগ্রাম। অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের মধ্যে আমিষ ১.৮ গ্রাম, শর্করা ২.২ গ্রাম, চর্বি ২.৯ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৮ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৯ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-বি ০.২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-সি ৫ মিলিগ্রাম এবং খাদ্যশক্তি  রয়েছে ৪২ কিলোক্যালরি। ভাতের সাথে বেগুন ভাজি আর মুড়ি দিয়ে গরম গরম বেগুনি খেতে দারুণ! বিশেষ করে রমজানের ইফতারিতে বেগুনির জুড়ি নেই। কেবল খাদ্য হিসেবেই নয়, এর ঔষধিগুণও আছে যথেষ্ট। যেমন-

ডায়াবেটিক: ডায়াবেটিক এবং যকৃতের জন্য বেগুন উপকারী এবং  রোগীর ভালো পথ্য। 

কফ: নিরাময়ে এর কার্যকারিতা বেশ। পাশাপাশি দেহের চর্বি কমাতেও সহায়তা করে। এজন্য বেগুন আগুনে পুড়ে পরিমাণমতো লবণ মেখে নিয়মিত খেতে হবে। 

হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি:বেগুনে উপস্থিত ফাইবার, পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬ এবং ফ্লেবোনয়েড কোলেস্টরলের মাত্রা কমানোর পাশাপাশি হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি: বেগুনে থাকা ফটোনিউট্রিয়েন্ট সেল মেমব্রেনকে নানা রকম আঘাত থেকে রক্ষা করে। ফলে মস্তিষ্কের ভিতরে থাকা হাজারো নিউরো সেলের কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে। যার ফলে স্মৃতিশক্তি এবং বুদ্ধি বাড়ে।
চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি: বেগুনে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকার কারণে এই সবজিটি খাওয়া শুরু করলে স্কাল্পে পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়। ফলে চুলের গোড়া শক্ত হয়ে ওঠে।
ওজন নিয়ন্ত্রণ: আমাদের ওজন কমাতে কিন্তু দারুন ভাবে সাহায্য করে বেগুন। সবজিটিতে থাকা ফাইবার অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে বারে বারে খাওয়ার অভ্যাস কমতে শুরু করে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: বেগুনে রয়েছে পটাশিয়ামসহ একাধিক উপকারি খনিজ, যা শরীরে ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স বজায় রাখে। সেই সঙ্গে শরীরে লবণের পরিমানও স্বাভাবিক মাত্রার মধ্যে থাকে। ফলে কোনো ভাবেই ব্লাড প্রেসার বাড়ার সুযোগ পায় না

No comments

Powered by Blogger.